নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান, ২০২৫ সালের ৭ মে, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাবেক মহাসচিব বদিউল আলম খোকন, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে আদালতে মামলা করলে, ৮ মে আদালত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞা দিলেও আদালতের আদেশ অমান্য করে সমিতির একাংশ সদস্য ৯ মে ২০২৫ তারিখে অবৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে শাহীন সুমন-শাহীন কবির টুটুল কমিটি সমিতির চেয়ারে বসে। পরে আদালত সমিতির কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
গত ৪ জুলাই ২০২৬ তারিখ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির একাংশ (জুলাই চেতনা বিরোধী অংশ) শাহীন সুমন ও শাহীন কবির টুটুলের নেতৃৃত্ব একটি সাধারণ সভা করে তিনজন গুনী চলচ্চিত্র পরিচালকের (জুলাই চেতনার পক্ষের অংশ) সদস্যপদ অবৈধ পন্থায় বাতিল করেছে। তাঁরা হলে সমিতির সাবেক মহাসচিব এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চলচ্চিত্র পরিষদের সভাপতি বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক বদিউল আলম খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আন্তর্জাতিজ চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচিত মুখ, চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক মনজুরুল ইসলাম মেঘ, যুগ্ম মহাসচিব জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক রিয়াজুল রিজু।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির অসাংবিধানিক ও জুলাই আন্দোলনের স্মুখ সারির জাতীয়তাবাদী নেতৃবৃন্দকে হেয় করার প্রতিবাদ জানিয়ে, আজ ৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ বিএনপির পেশাজীবি পরিষদের অর্ন্তভুক্ত “জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোট” ও “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চলচ্চিত্র পরিষদ” আলাদা আলাদা দুটি বিবৃতি প্রদান করেছেন।

ছবি : রফিকুল ইসলাম, এবিএম সোহেল রশিদ
বিএনপির পেশাজীবি পরিষদের সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির অন্যতম সদস্য, জাসাস আহ্ববায়ক কমিটির অন্যতম যুগ্ম-আহ্ববায়ক, “জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোট” এর মহাসচিব রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিবৃতি-
বিতর্কিত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি কর্তৃক তিন জন প্রথিতযশা চলচ্চিত্রকারকে আজীবন বহিষ্কারের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা
বর্তমান বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি আদালতের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে কতিপয় আওয়ামী ফ্যাসিস্ট চলচ্চিত্র পরিচালক অবৈধ প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে প্রায় দু বছর যাবত চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি দখল ও একের পর এক অনৈতিক ও অপকর্ম করে চলেছে, যা- জুলাই আগস্ট চেতনার পরিপন্থী ।
বিভিন্ন সময় সমিতির বর্তমান কমিটির বৈধতা ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় অতি সম্প্রতি ৪ জুলাই ২০২৬ তারিখ বিতর্কিত চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি মনগড়া সাধারণ সভার নামে ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী জাতীয়তাবাদী চলচ্চিত্র পরিষদের সভাপতি, পরিচালক সমিতির সাবেক মহাসচিব প্রথিতযশা চলচ্চিত্রকার বদিউল আলম খোকন, জাতীয়তাবাদী চলচ্চিত্র পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক, আন্তর্জাতিকভাবে চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ চলচ্চিত্রকার মনজুরুল ইসলাম মেঘ, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার রিয়াজুল রিজুর বিরুদ্ধে অবৈধ পরিচালক সমিতি আজীবন বহিষ্কারের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আওয়ামী ফ্যাসিস্ট মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ ও অবৈধ। যা কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আমাদের প্রত্যাশা অবিলম্বে উল্লেখিত তিনজন চলচ্চিত্রকারের অবৈধ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হোক, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি ফ্যাসিস্টমুক্ত হোক ও দখলমুক্ত হোক।
জাসাস আহ্ববায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চলচ্চিত্র পরিষদ” এর মহাসচিব এবিএম সোহেল রশিদ স্বাক্ষরিত বিবৃতি-
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চলচ্চিত্র পরিষদের নেতৃবৃন্দ আজ (৬ জুলাই) এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক বদিউল আলম খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রযোজক-পরিচালক মনজুরুল ইসলাম মেঘ এবং যুগ্ম মহাসচিব, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক রিয়াজুল রিজুকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি থেকে অগনতান্ত্রিক, শিষ্টাচারবহির্ভূত ও অবৈধভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। যদিও আমরা আনুষ্ঠানিক ভাবে পরিচালক সমিতির সীদ্ধান্তের স্বপক্ষে কোনো লিখিত নির্দেশনা বা ঘোষণা বা নোটিশ বা বক্তব্য পাইনি।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় আদালতের আশ্রয় গ্রহণ করেন, তবে সেটি তাঁর সাংবিধানিক অধিকার। বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক ও চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাবেক মহাসচিব সেই অধিকারই প্রয়োগ করেছেন। পরিচালক সমিতির নির্বাচন সংক্রান্ত মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের বহিষ্কারাদেশ প্রদান কতটা যুক্তিসংগত ও আইনসম্মত—সে প্রশ্নের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন না করেই আবেগপ্রসূত ও অগনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চলচ্চিত্র পরিষদের নেতৃবৃন্দকে লক্ষ্য করে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে, ফ্যাসিবাদী দোসরদের প্ররোচনায় এই ন্যাক্কারজনক ও অবৈধ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চলচ্চিত্র পরিষদ মনে করে, প্ররোচনা ও আবেগের বশবর্তী না হয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি শুভবুদ্ধির পরিচয় দেবে এবং সংগঠনের মর্যাদা, ঐতিহ্য ও গৌরব অক্ষুণ্ণ রাখতে অবিলম্বে এই অবৈধ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করবে।
ছবি : ৩ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে এফডিসিতে জুলাই গণহত্যার দোসরদে মানবন্ধনে শাহীন সুমন
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির একাংশ দাবি করেছেন যে, বর্তমানে জুলাই বিরোধী একটি চক্র বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি দখল করে আছে, এই কমিটির কোন বৈধতা নেই, আদালতে মামলা চলমান। অবৈধ সভাপতি দাবিদার শাহীন সুমন ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট তারিখে জুলাই গণহত্যার পক্ষে আওয়ামী চলচ্চিত্র লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম খসরুর নেতৃত্বে, আওয়ামী গণহত্যার পক্ষে এফডিসিতে মানববন্ধন করেছে। জুলাই বিরোধী চক্র পরিচালক সমিতি দখল করে রেখেছে অগনতান্ত্রীক, অসাংবিধানিক ভাবে। বদিউল আলম খোকন দলমত নির্বিশেষে সমিতির সকল সদস্যের অধিকার বাস্তবায়ণ করার জন্য আদালতে মামলা করেছেন এবং বর্তমানে মামলী বিচারাধীন। বিষয়টি ব্যক্তিগত ভাবে না দেখে আদালতের নির্দেশনা আসা পর্যন্ত কারু সম্মানের ক্ষতি হয় এমন কাজ যে কোন পক্ষের করা উচিৎ নয় বলে মনে করেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। কিন্তু শাহীন-টুটুল নেতৃত্বাধীন জুলাই বিরোধী অংশ অত্যান্ত ঘৃনিত কাজটিই করেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মনজুরুল ইসলাম মেঘ ও রিয়াজুল রিজু বিএফডিসির অনিয়ম, জালিয়াতির বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন প্রতিবাদ করে যাচ্ছেন, যে তিনজন পরিচালকের বিরুদ্ধে অবৈধ বহিস্কার করা হয়েছে তারা তিন জন ই জুলাই সৈনিক, রিয়াজুল রিজু জুলাই আহত সৈনিক।
ছবি: (ডান থেকে) জুলাই গণহত্যার দোসর অবৈধ সভাপতি শাহীন সুমন, অবৈধ মহাসচিব শাহীন কবির টুটুল, অবৈধ উপমহাসচিব কবিরুল রানা
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির একাংশদের সাথে নিয়ে জুলাই সৈনিকদের অবৈধ উপায়ে, অগণতান্ত্রিক, অসাংবিধানিক ভাবে সমিতির একাংশ সদস্যদের সাধারণ সভায় তিন জন গুনী পরিচালককে বহিস্কার করে শাহীন টুটল প্রমাণ করেছে যে, তারা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পুর্নুবাসনের অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলনের পক্ষের চলচ্চিত্র পরিচালকেররা বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দাবি তুললে মনজুরুল ইসলাম মেঘ এর নেতৃৃত্ব ২০২৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর “চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির ফ্যাসিবাদের দোসরদের ভাগাভাগির নির্বাচন” স্থগিত হয়, যা ঐ বছর ২৮ ডিসেম্বর সমিতির একাংশের ইচ্ছায় অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিলো। ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারী আবারো জুলাই বিরোধী অংশ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করার পরে, ৯ জানুয়ারী মনজুরুল ইসলাম মেঘ এর নেতৃত্ব সেই নির্বাচনও স্থগিত হয়ে যায়। এর পরে ৬ মে ২০২৫ তারিখ রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে জুলাই বিরোধী চক্র কিন্তু মনজুরুল ইসলাম মেঘ তথ্য প্রমান সহ জাতীয় প্রেস ক্লাব কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ করলে জাতীয় প্রেস ক্লাব কর্তৃপক্ষ ৬ মে, ২০২৫ তারিখ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির একাংশের নির্বাচনের ভেন্যু বাতিল করে।

পরপর তিনবার জুলাই বিরোধী একাংশের নির্বাচন স্থগিত হবার পরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাবেক সভাপতি বদিউল আলম খোকন, আদালতে মামলা ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সকল সাধারণ সদস্যদের পক্ষে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের চেষ্টা করেন। আদালত ৮ মে ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নির্বাচনে ৭ কার্যদিবস নির্বাচন স্থগিতাদেশ দিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। বদিউল আলম খোকন চেষ্টা করেছেন, ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সকল সদস্যদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার।
কিন্তু শাহীন সুমন-শাহীন কবির টুটুল জুলাই বিরোধী চলচ্চিত্র পরিচালকদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির একাংশ সদস্যদের নিয়ে আদালতের আদেশ অমান্য করে ৯ মে ২০২৫ তারিখ রিপোর্টার্স ইউনিটিতে নিষিদ্ধ আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসরদের ভাগাভাগির নির্বাচন করে নিজেরা পদ ভাগাভাগি করে নিলে, আদালত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নির্বাচনে; আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায়, ভায়োলেশন মামলা দায়ের ও নির্বাচনোত্তর সকল কার্যক্রম স্থগিত করে নির্দেশনা দেন ১৬ মে।
আদালতের আদেশ ভঙ্গের অপরাধে (মিস ভায়োলেশন) নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বাচ্চুসহ তিন নির্বাচন কমিশনের নামে মামলা ও সমন জারি করে। আব্দুল লতিফ বাচ্চুর অসুস্থতায় মামলাকারী পক্ষ তার সম্মানে নমনীয়তা প্রকাশ করলে জুলাই বিরোধী পক্ষ কৌশলে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি দখল করে কার্যক্রম করতে থাকেন। ইতোমধ্যেই আব্দুল লতিফ বাচ্চু প্রয়াত হয়েছেন এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির বর্তমান কমিটির বৈধতা নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন আছে। আগামি ১২ জুলাই আদালতে উক্ত মামলার শুনানীর দিন ধার্য্য করা হয়েছে, কিন্তু তার আগেই শাহীন-টুটুল অত্যান্ত বির্তকিত ও ঘৃনিত কাজ করেছে বলে চলচ্চিত্র মহলে নিন্দার ঝড় বইছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা চলছে, যে কমিটির নিজের বৈধতা নেই, সেই কমিট অন্যকে বহিস্কার করে কি ভাবে? এখন এই বিষয়টি আদালতে সুরহা হবে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীদের একজন। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আদালতে মানহানির মামলার প্রস্তৃতি চলছে বলে জানা গেছে।