উদ্বোধন হলো ৬ষ্ঠ সিনেমাকিং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২৪ ডিসেম্বর রাতের প্রথম প্রহরে ৬২ দেশের ২২০ চলচ্চিত্র নিয়ে ২৪ ডিসেম্বর রাতের প্রহরে ভার্চুয়ালে পর্দা উঠলো ৬ষ্ঠ সিনেমাকিং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৫ এর।

চলচ্চিত্র উৎসবের নতুন নান্দনিকতায় ভার্চুয়ালী অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উৎসব পরিচালক মনজুরুল ইসলাম মেঘ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পোল্যান্ড বংশোদ্ভূত নরওয়ের বিখ্যাত নারী চলচ্চিত্র পরিচালক এলিজাবেথ কাপসা, মিশরীয় তরুন চলচ্চিত্র পরিচালক ভাবলী কামেল। উদ্বোধনী পর্ব শেষে জুরী স্ক্রীনিং শুরু হয়।

উৎসবের পর্দা উঠেছে হংকং এর বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক লি বিন পরিচালিত আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্ত “দ্য বুদ্ধ, দ্য রেড সুজ এন্ড দ্য স্কাইট” জুরী স্ক্রিনিং এর মধ্য দিয়ে।

আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া, আফ্রিকাসহ সব মহাদেশের পূর্ণদৈর্ঘ্য, স্বল্পদৈর্ঘ্য, ডকুমেন্টারি, মোবাইলে নির্মিত সিনেমা সেকশনের পাশাপাশি সিনেমাকিং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সেকশন “ইন্সটিটিউট ফোকাস” এই সেকশনে ২৫ টি দেশের ৫০ টি ফিল্ম স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ চলচ্চিত্র নিয়ে প্রতিযোগিতা করছেন। এছাড়াও শিশু কিশোরদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ “কিডস্ ফিল্মকেমকার” সেকশনে ১৮ বছরের কম বয়সী চলচ্চিত্র পরিচালকদের নির্মিত চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা করে। এই সেকশন শিশু কিশোরদের মধ্যে চলচ্চিত্র নির্মানে আগ্রহী করতে বিশ্ব ব্যাপী বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদিকে উৎসর্গ করে ৬ষ্ঠ সিআইএফএফ এর স্লোগান করা হয়েছে “মত ও দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা চাই” উৎসবের পোষ্টারে স্থান পেয়েছে ওসমান হাদির প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের ছবি। গত বছর পোষ্টারে স্থান পেয়েছিলো শহীদ আবু সাইদ।

সিআইএফএফ এর প্রতিষ্ঠাতা ও উৎসব পরিচালক মনজুরুল ইসলাম মেঘ বলেন, উৎসবের এই বছর ৬ষ্ঠ এডিশন থেকে শুরু হচ্ছে “হিরালার সেন আজীবন সম্মাননা”। বাংলাদেশী একজন কিংবদন্তী চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশের বাহিরের বাংলা ভাষার চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব কে এই সম্মাননা জানানো হবে।

উৎসব পরিচালক মেঘ আরো বলেন, ৬ষ্ঠ এডিশন থেকে শুরু হচ্ছে প্রয়াত চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের সম্মানে “রেমেমবার দ্য লিজেন্ট” কর্নার। উৎসবের এই কর্ণারে তুলে ধরা হবে প্রয়াত চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের জীবনী ও কর্ম। ৬ষ্ঠ এডিশনে বাংলাদেশ প্যানোরমা উৎসর্গ করা হবে অমর নায়ক সালমান শাহ কে। ভারতীয় প্যানোরমা উৎসর্গ করা হবে ভারতীয় কিংবদন্তী গায়ক জুবিন গর্গ কে। আন্তর্জাতিক উৎসর্গ করা হবে দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্ব বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক কিম কি দুক কে।

সিনেমাকিং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পুরস্কার ক্রেস্টে পরিবর্তন আনা হচ্ছে জানিয়েছেন আয়োজক কর্তৃপক্ষ। সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য ও সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য ক্রেস্ট হিসেবে থাকবে “বেঙ্গল টাইগার” সেরা ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্রের জন্য “হিলসা ফিস”। এর বাহিরে সকল বিজয়ীদের পুরস্কার হিসেবে আগের সিআইএফএফ ট্রপি দেয়া হবে।

উল্লেখ্য নিরপেক্ষ জুরী, গুনগত মানসম্মত বিশ্বমানের চলচ্চিত্রের সিলেকশন, সর্বোচ্চ দেশের অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক মান নিরুপনে সততা ও গ্রহনযোগ্যতার কারনে সিনেমাকিং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ইতোমধ্যেই বিশ্ব চলচ্চিত্র উৎসবে সমাদৃত হয়ে দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব হিসেবে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট নিয়ে মর্যাদার আসনে বাংলাদেশ কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

“বাংলা চলচ্চিত্র বিশ্ব জয় করবে” স্লোগান নিয়ে করোনা মহামারির মধ্যে ২০২০ সালের ২৪ ডিসেম্বর ৫৪ টি দেশের ১৭৭ টি চলচ্চিত্র নিয়ে শুরু হয়ে ২০২১ সালে দ্বিতীয় এডিশনে অংশগ্রহণ করেছিলো ১২০ টি দেশ। তারই ধারাবাহিকতায় এই বছর ৬ষ্ঠ এডিশনে ৬২ টি দেশের ২২০ টি চলচ্চিত্র বিভিন্ন বিভাগে প্রতিযোগিতা করবে।

মেঘ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ঢাকা ফেস্টিভ্যাল এর ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিক ভাবে অনুষ্ঠিত হতে হতে এই বছর ৬ষ্ঠ আসরে পদার্পণ করেছে এই মর্যাদাপূর্ণ সিনেমাকিং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। সরকারী বেসরকারী কোন সহযোগিতা ছাড়ায় কয়েকজন চলচ্চিত্র প্রেমী ব্যক্তিত্বদের আন্তরিকতায় একটি উৎসব যে আন্তর্জাতিক অবস্থানে যেতে পারে তার বাস্তব উদাহরণ সিআইএফএফ।

উৎসবের সমাপনী হবে ভারতীয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্র পরিচালক ওজস্বী শর্মা পরিচালিত আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “আবব্ দি আওয়াজ” প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে।

৬২ দেশের ২২০ টি চলচ্চিত্র নিয়ে ২৪ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে আন্তর্জাতিক জুরী স্ক্রীনিং, এর পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেয়া হবে উৎসবের পুরস্কার ও সনদ।

Share