সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগের হামলা : আহত ৭
জেলা প্রতিনিধি : বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ডিইএব সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব ও জিয়া সাইবার ফোর্স-জেডসিএফ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মো. রাকিব হোসেন খানের উপর পরিকল্পিত হামলা হয়েছে, মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে দুই জন। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে আহত আরও ৫ জন।
৩১ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিন সকাল আনুমানিক ১০ ঘটিকায় সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার সলংগা থানা এলাকায় অতর্কিত হামলা হলে মো. রাকিব হোসেন খানকে উদ্ধার করতে এসে আহত হন মো. শাহাদাৎ হোসেন (৪৯), মো. আবু ইউসুফ শেখ দুলাল (৪০) মো. মতিন শেখ (৬৫), তারা মারাত্মক আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। এছাড়াও আরো আহত হয়েছেন মো. সোহাগ, মো. রুবেল, মো. সানোয়ার হোসেন, কে এম মেহেদী হাসান প্রমুখ।
সিরাজগঞ্জের সলংগা থানায় এজাহার দায়ের করেছে মো. শাহাদৎ হোসেন। এজাহারে বিবাদী আসামী হিসেবে ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিবাদী আসামীগন মো. মোহাব্বত আলী শামীম (৪৫) মো. আব্দুর রহিম খোকন (৩৭) উভয়ের পিতা মো. কাছের উদ্দিন শেখ, মো. সুজন শেখ (২৫) পিতা মুকুল শেখ, মো. আব্দুল মাজেদ শেখ (৩৫) পিতা মো. আব্দুস সালাম শেখ, মো. ফিরোজ শেখ (৪০) পিতা মো. আব্দুস সালাম শেখ, মো. হাবিবুর রহমান হবি (৬০) পিতা মৃত কাজেম শেখ, মো. মোখলেস শেখ (৪৬) পিতা মো. আছের উদ্দিন শেখ, মো. ইমন শেখ (২৫) পিতা মো. মোখলেছ শেখ, মো. শামীম খান (৩০) পিতা নায়েব আলী খান, মো. মোতালেব খান (৩৫) পিতা নায়েব আলী খান, মো. সুমন শেখ (৪০) পিতা মো. মুকুল শেখ, মো. আবুল কালাম শেখ (৫০) পিতা মৃত মন্তাজ শেখ।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়, গত জুলাই বিপ্লবে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার খ্যাত হাটিকুমরুলে যে আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিলো সেখানে রাকিব হোসেন খান নেতৃত্বে দিয়েছিলো এই কারণেই প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিলে পরিকল্পিত ভাবে ছাত্রনেতা রাকিবের উপর হামলা চালায়।
হামলাকারী মো. নুর -নবী (ফিরোজ)হাটিকুমরুল ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সহ সভাপতি, মো. মহাব্বত আলী শামীম হাটিকুমরুল ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, হাবিবুর রহমান হবি হাটিকুমরুল ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, মো. সুজন শেখ হাটিকুমরুল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, মোখলেস শেখ ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, এছাও আওয়ামী লীগ কর্মী হিসেবে পরিচিত সুমন শেখ,আব্দুর রহিম খোকন, আব্দুল মাজেদ শেখ, শামিম খান,বাবুল শেখ।
৫ই আগস্টের পর থেকে অভিযুক্তরা পালিয়ে ছিলো, ঈদের দিন প্রকাশ্যে এসে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক রাকিব হোসেন খান ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা কে এম মেহেদী হাসানের উপর হামলা করে। আহত সবাই বিএনপি নেতা কর্মী।
হামলার বিষয়ে আহত ছাত্রনেতা রাকিব হোসেন খান জানান, এই হামলা পরিকল্পিত ভাবে হত্যার উদ্দেশ্য করেছে। আমাকে উদ্ধার করতে এসে আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে দুই জন, প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে আহত আরও কয়েকজন, আমি নিজেও মারাত্নক আহত হয়েছি। এই সংঘবদ্ধ চক্র বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে আমাদের, বসত বাড়িতে হামলা করে লুট করেছে। একই ভাবে আবার হত্যার উদ্দেশ্য হামলা করেছিলো কিন্তু আল্লাহ রক্ষা করেছেন।
রাকিবের উপর হামলার ক্ষোভ জানিয়ে হামলাকারীদের অতিদ্রুত গ্রেফতার করার জন্য দাবি জানিয়েছেন জিয়া সাইবার ফোর্স-জেডসিএফ এর প্রধান সমন্বয়ক স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) ওয়াদিন উন নবী। চেয়ারম্যান নাসিফ ওয়াহিদ ফাইজাল, মহাসচিব সফিকুল ইসলাম। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. আবু হুরায়রা, সাধারন সম্পাদক এম রাজিবুল ইসলাম তালুকদার (বিন্দু)।
সলংগা থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা জানিয়েছেন হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।